Showing posts with label আমার ভাবনা. Show all posts
Showing posts with label আমার ভাবনা. Show all posts

স্মৃতির আপডেট

January 26, 2017 Add Comment


 তখন রাত দুইটা, হাওড়া গামী পুরুলিয়া এক্সপ্রেসটি সাঁতরাগাছি স্টেশনে থেমেছে। ভারী বৃষ্টির কারনে হাওড়াতে পৌঁছাতে পারবে না। ঘরে যেতে দুই ঘণ্টার পথ, এই গভীর রাতে পৌঁছান অসম্ভব। ট্রেন থেকে নেমে ওভার ব্রিজ উপর উঠলাম। লাইট পোষ্টের আলোতে ঝির ঝির বৃষ্টিতে, এক অপরূপ দৃশ্য ভেসে উঠেছে। কিছু সময় এই দৃশ্য অবলোকন করার পর, হাওড়া যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ওভার ব্রিজ থেকে নীচে নেমে সামনের দিকে চলতে লাগলাম, পথের মাঝে তিনটি বড় ব্যাগ নিয়ে, বৃষ্টিতে ভিজতে থাকা এক ভদ্র মহিলার কণ্ঠস্বর, ভাই একটু সাহায্য করবেন ? আমি বললাম বলুন, কি করতে পারি, তিনি বললেন আমার ব্যাগ গুলিকে নিয়ে, ট্রাক্সি স্টান্ডে পৌঁছে দেবে ? আমি বললাম দিন, ব্যাগ গুলি খুবই ভারী ঠিকমত সেগুলি নিয়ে স্টান্ডে পৌঁছে দিলাম। তারপর বাসে চড়লাম রাত গভীর হওয়ার কারনে বাস ভাড়া কুড়ি টাকার পরিবর্তে পঞ্চাশ দিতে হবে, খুচরো না থাকার কারনে একটি পাঁচশো টাকার নোট দিলাম, বাস কন্টাকটর আমাকে একটি পঞ্চাশ টাকা আর পাঁচটি একশো টাকার নোট অর্থাৎ সাঁড়ে পাঁচশো টাকা দিলেন। আমি গণনা করার পর, বেশি একশো টাকাটি তাকে ফেরত দেওয়াতে সে খুশি হল। হাওড়াতে পৌঁছালাম তখনো রাতের অন্ধকার, কিছু সময় অপেক্ষার পর সকাল হওয়াতেই বারাসাত গামী বাস ধরে বাড়িতে পৌঁছালাম, তখন সবে মাত্র পরিবারের লোক ঘুম থেকে উঠে আমাকে দেখে সবাই খুশি হল।

তন্দ্র আচ্ছন্ন চোখের ভাষা

November 28, 2016 Add Comment
আমি তাকে দেখেছি দুরপাল্লার কোনো এক ট্রেনে। চলেছিল সুখের সন্ধানে আমারই অজানা কোনো গন্তব্যে। যদিও বা পথ ছিল দুর্গম, বহু মানুষের ভীড়, অবরুদ্ধ বাতাস, প্রায় তার শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কমল হৃদয়ের মানুষটি পরিনিত হয়েছিল যান্ত্রিক মানবে, শুধু দৌড় আর দৌড়, ছিল না তার ভাবনার কোনো অবকাশ। হাজার ব্যস্ততার মাঝে হাবুডুবু খাওয়া সেই পথিক, যখন ক্লান্ত দেহে তার দুচোখে আধার নেমে আসে, তখন দাবী একটাই নিরাপদ কোনো আশ্রয়, যেখানে পূর্ণ শান্তি অবস্থান করে।

ছোট্র একটি প্রশ্ন ?

November 16, 2016 Add Comment
জীবনের একটি দুইটি পা করে পথ চলতে চলতে আজ তো প্রায় গোধূলি লগ্নে পৌঁছালে। শৈশবের স্মৃতি গুলি কি আজও তোমার মনে পড়ে।
সেই দিনের কথা তুমি অসুস্থ ছিলে, দুর্যোগ পূর্ণ গভীর রাতে, মা উৎকন্ঠার সাথে বসে আছে বিছানার পাশে, বারান্ডায়  বাবার উৎবেগের সাথে পায়চারি, পরিবারের বাকি জনের চোখে ঘুম নেই, সবাই অপেক্ষায় আছে সকালের।
মনে পড়ে কি উৎসবের কোনো এক দিনের কথা, বাবা বাজার থেকে নতুন জামা কাপড় আর খাবার সামগ্রী নিয়ে ফিরেছে রাতে, তুমি আনন্দে উচ্ছাসে মেতে ছিলে আর অপেক্ষা করছিলে সকালের। ভোর রাত্রে উঠে চেঁচামেচির শব্দে সবার ঘুম থেকে জাগানোর স্মৃতি।
তুমি তো ছিলে সবার খুশির পাত্র, তোমারই আগমনে অন্ধকার ঘরটি সেই দিন আলোকিত হয়ে উঠেছিল। তোমায় নিয়ে বাবা মা বুকেতে, স্বপ্নের ভালো বাসা বেঁধেছিল। আর তার পূর্ণতা দিতে তারা, আগুনের মত ধুকে ধুকে জ্বলে তোমাকে গড়ে ছিল। আজ তারা আর  নেই, নস্বর পৃথিবীর মায়া ছেড়ে ওপারে গিয়েছে চলে।।  রেখে গেছে তাদের শ্রম আর স্নেহের ধন, যার বিনিময়ে তুমি প্রতিষ্ঠিত হলে। এ ছিল তোমার বাবা ও মায়ের বংশানুক্রমিক ধারা, যা গতানুগতিক ভাবে চলে আসছে যুগ যুগ ধরে।
ঐ দেখো তোমার বন্ধু, বান্ধবী, সহপাঠী, সহকর্মীদের তারাও যৌবনে ফুল আর ফলে সুশোভিত হলো। সুখ ও দুঃখের সাথে তারাও তো বেশ চললো। তারা শৈশব ও কৈশরের আশ্রয়ের  বিনিময়ে, যৌবনে অপরের দায়ভার নিয়ে ভারসাম্য রাখল।  আর তুমি আশ্রয়িত ছিলে, আজ দায়ভার গ্রহণে কেনো বা এড়িয়ে   গেলে। জীবনের অন্তিম লগ্নে এসে, তুমি তবে কি স্বার্থপর ও ভোগীর অভিশাপ নিয়ে, কিভাবে থাকবে সুখে ওপারেতে ।

ভয় ও আশা পোষণ, আমাকে তার কাছে অধিক প্রিয় করেছে।

November 16, 2016 Add Comment
সর্ব বিষয়ে আর দুই চার জন মানুষের মত আমিও সাহসী ছিলাম। শালীনতার সীমা ছাড়িয়ে অশ্বীলতা, ভদ্রতাকে উপেক্ষা করে অভদ্রতা, আশীর্বাদের পরিবর্তে তিরস্কার কোনো  অংশে কম ছিলাম না। এই সাহসিকতা আমাকে আর্বজনার উপর নিক্ষেপ করেছিল। সমাজের মানুষ আর তিনিও আমায় থেকে দুরে থেকেছে। বিচ্ছন্ন ও একাকী মনে আমার ভাবনার উদ্রেক হল, অনুভব করলাম ভুল দৃষ্টিভঙ্গির , তাই লাগাম টানলাম সাহসের। ভয় স্বভাবজাত হওয়ায় তাকে সাথে নিলাম। তাই আজ শালীনতার সীমা অতিক্রমকে ভয় করছি এজন্য যে, সে আমাকে সম্মান দিয়েছে। তিরস্কার বা অভদ্র আচরণ থেকে দুরে থাকছি, কারন এর ভয় আমাকে ব্যক্তি হিসাবে মর্যাদা দিয়েছে।
আর সেই সাথে অপরকে এবং   তার প্রতি আশা পোষণ করি যে,  আমার এই আচরণে সন্তুষ্ট হবে, এবং আমাকে আরও বেশি ভালোবাসবে।
এই ভয় ও আশা পোষণ, আমাকে তাদের কাছে অধিক প্রিয় করেছে।

জীবন সে এক লৌহ মানব

November 16, 2016 Add Comment

জীবনের গুরুত্ব যদি বুঝতে চাও, তাহলে কামারের অস্ত্র তৈরি করার নমুনা দেখো। সে একটি লোহার খণ্ডকে অাগুনের ভিতর দিয়ে উত্তপ্ত করে, হাতুড়ি দিয়ে খণ্ডটির এপিঠ ওপিঠ সজোরে অাঘাত করে। তারপর জলের ভিতর দিয়ে ঠাণ্ডা করে। পুনরায় তাকে অাগুনের ভিতর দিয়ে গরম করে, হাতুড়ি মেরে, জলের মধ্যে ঠাণ্ডা করে। পর্যায়ক্রমে চলতে থাকে। অবশেষে লোহার খণ্ডটি, ব্যবহার উপযোগী অস্ত্রে পরিণত হয়।
কেউ যদি তার নিজের জীবন গড়তে চায়, তাহলে কামার যেমন লোহার খণ্ডটিকে অস্ত্রে পরিণত করে, ঠিক তেমনিই সমস্ত অারাম অায়েশকে বিদায় জানিয়ে, জীবনের প্রতিটি ঘাত, প্রতিঘােত, অনুকূল, প্রতিকূলে, বিপদ, অাপদে, দুখ, দুর্দশায়, অবিচল, অনড় থেকে ও ধৈর্য্যের সাথে পরিস্থিতির মোকাবিলা করে, এমন জীবন সে গড়ে তলে, যা হয় শক্তিশালী, ঠিক যেন লৌহ মানব। কোনো কিছু তাকে কাটতে অাসলে, সেই তখন কেটে খানে খান হয়ে যায়।