হারানো স্রোত

November 28, 2016
বাবু নিদ্রা হইতে জাগিয়া কহে,
ভাত দে মা, পড়িতে যামু গায়ের ঐ পাঠশালাতে,
মা নে কহে ভাত নাই ঘরে, পুছ তোর বাপুরে,
বাপু নে কহে ভাত নাই তো ক্যা হে,
ঘরমে দারু হে, যা বাছা পিলে,
বাবু পি কর ঢলিতে ঢলিতে পাঠশালায় যাই,
গুরুজী নে কহে ক্যায় রে পোলা খালি ঘুমাই,
দুর হ হতচ্ছাড়া ঘর মে যা,
ঘর মে আকর বাপু নে কহে, লেখাপড়া তোর হবেক নাই, দারু পিকর কাম পে যা,

কর্মতে আমি ছিলাম বড়ই কম জোর,
দারুই আমাকে করেছিল তাকাত বর,
যবানীর শুরুতেই পড়েছিলাম এক কন্যার প্রেমে,
স্বাদী মুই করিলাম মর্দ হওয়ারই আগে,
বছর ঘুরিতেই আসিল মোর স্ত্রীর কোলে,
ফুটফুটে এক পুষ্পে গেল নয়ন ভরে,
তার আগমনে কুঁড়ে ঘরটি আলোকিত হইল,
হাসিতে খুশিতে সবাই তাকে নিয়ে মাতিল,

সেই দিন, হ্যাঁ সেই দিন আজও মনে আছে,
সহকারীর সাথে হয়েছিল বচসা সামান্য বিষয়ে,
খেয়েছিলাম দারু মাথা নত করিতে নাহি পারি,
তাই সজোরে কশিয়েছিলাম আঘাত তরবারির,
এক যুগ হাজোত খাটিয়া ফিরলাম ঘরে,
আমার পুষ্প নয়নাটি তখন উঠেছে বেড়ে,
গাঁ'য়ের চারিপাশ দেখিলাম ঘুরে, সবই তো ঠিক আছে,
মাঝেতে দারু মোর যৌবন নিয়েছে কেড়ে,

গাঁয়ের ঐ পাড়াতে ছিল মোর সহপাঠীর বন্ধুর ঘর,
দেখা হয়েছিল পথে, নিজ গাড়িতে যেতেছিল আপন ঘর,
আমি কহিলাম ডেকে,
কেমন আছো বন্ধু কি কর ওহে,
কহিল সে, চাকরী করি গো বন্ধু দুরের ঐ শহরে,
গাড়ি বাড়ি সবই হয়েছে, পরিবার নিয়ে আছি বেশ সুখে,

আরে তোর খবর যে বল,
সবকিছু হারিয়ে দারু কি হল তোর সম্বল,
ওরে সর্বস্ব উজাড় করে,
দারু নিয়ে কি করে থাকলি ভুলে,

তখন আমার উদয় হলো চেতনার,
সত্যি তো আমি যে গেলাম পিছিয়ে সবার,
আরে পড়ার যখন সময় ছিল, পাই নি খেতে দু মুঠো,
খাবারের বদলে পেয়েছি দারু, বল কি করে আগে বাড়বো,
আচ্ছা তুই তো শিক্ষিত সত্যি করে বল,
ওরা দারু দিয়ে কেনো আমাদের জীবনের সাথে করে ছল ?

* আমরা কি পিছিয়ে গেলাম ?
না ওরা মাদেরকে পিছিয়ে দিল ?

Share this

Related Posts

Previous
Next Post »