দৃশ্যপট

আমার পরামর্শ

আমার ভাবনা

Recent Posts

আত্ম সমীক্ষা

January 30, 2017 1 Comment

পঁচাশিতম জন্মবার্ষিকীটি খুব আড়ম্বরের সাথে উদযাপিত হল। প্রিয়জন বিয়োগের শোকে কিছুটা আহত হলেও অবশেষে, আমার সমবয়সী বন্ধু নিজাম, মনি, সুভাষ আর কনিষ্ঠদের সংবর্ধনা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে, আমার আশা হত শুষ্ক প্রাণে জলের সঞ্চার ঘটেছে। জীবনে বেঁচে থাকার ইচ্ছা পুনরায় জেগেছে। চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর একটা ছোট্র ব্যবসা খুলেছিলাম, তা এখন ছেলেরা পরিচালনা করে। একটা সময় ছিল যখন আমি, নাতি নাতনিদের সাথে খেলাধুলা করে সময় কাটিয়েছি, এখন তারা বড় হয়েছে, স্কুল, টিউশনে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। ছেলেরা ব্যবসা ও অফিস নিয়ে আর বৌমারা সারাদিন রান্নাবান্না ও তাদের সন্তানদের পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকে। আর তিনি তো নেই, তাই পড়ন্ত বয়সে আংশিক সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে, গুরুদায়িত্ব থেকে অবসর নিয়ে, একাকীত্বকে আজ বেঁচে নিয়েছি। সমাজ জীবনের যান্ত্রিক ব্যবস্থাককে দুরে ঠেলে, প্রকৃতির মাঝে নিজ অস্তিত্ব আবিষ্কার করার চেষ্ট করছি। প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর বাতাস, ফুলের সুবাস, ঝরনা সুমিষ্ট জল, নদীর কলতান, বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ, আর ঐ দিগন্ত আকাশ যেখানে মাটির সাথে মেশে, এই অপরূপ সৌন্দর্যের মাঝে নিজেকে আজ হারিয়েছি। আর একটু একটু করে স্মৃতির মন্থন করছি, শৈশবের সেই দিন গুলির, যেদিন জীবনের প্রথম  পরিচয় ঘটেছিল মা'য়ের সাথে, তার অনুপম ভালোবাসা ও স্নেহের পরশে আমার অসহায় মুহূর্ত গুলি অতিবাহিত হয়েছে পরম যত্নে। বাবার আদর ও পরিচর্যা এবং তার একনিষ্ঠার সাথে কর্তব্য পালনে, আমি যোগ্য হয়ে উঠেছিলাম এই পৃথিবীর জীবন যাপনের। তারই প্রচেষ্টায় সুশিক্ষিত হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। বন্ধু সহপাঠীদের সাহচর্যে আমার একাকী মুহূর্ত গুলি হয়ে উঠেছিল আনন্দ পূর্ণ। সামাজিক দায়বদ্ধ বন্ধনের কারনে, পাড়া পড়শির সহযোগী মুলক আচরণে, প্রিয়তমার অকৃত্রিম, হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা, সুখ ও দুঃখে জীবনের অন্তিম কাল পর্যন্ত অনড়, অবিচল পাশে থেকে, জীবনের গতি দেওয়ার পূর্ণ প্রয়াস, ছেলে এবং বৌমাদের আমার প্রতি নিয়মানুবর্তিতার সাথে যত্ন আর নাতি নাতনিদের প্রাণ ঢালা শ্রদ্ধা আমাকে ভাবিয়েছে। একের পর এক মনে প্রশ্ন জাগছে, 
*  বাবা ও মা'য়ের প্রতি ঠিকমত সদাচরণ করতে পারলাম তো ?
*  বন্ধুবান্ধবের প্রতি সদ্ব্যবহার করতে পারলাম তো ?
*  সামাজিক দায়বদ্ধতা, আমি কতটুকু গ্রহণ করেছি ?
*  জীবনসঙ্গিনী, অর্ধাঙ্গিনী আমার স্ত্রীকে কি ঠিকমত ভালোবাসাতে পেরেছি ?
*  ছেলে, বৌমা ও তাদের সন্তানদের প্রতি ঠিকমত দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি ?
* জীবনের সামাজিক, রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজেকে সৎ ও সততার ভিত্তিতে কল্যাণ কামী মানুষদের সাথ কি দিতে পেরেছি ?
*  প্রকৃতি থেকে বিশুদ্ধ বাতাস, সুমিষ্ট পানীয়জল গ্রহণ করেছি, আমি কি তার কোনো মূল্য দিতে পেরেছি ?
*  সুন্দর অবয়ব এবং সুস্বাস্থ্য নিয়ে প্রকৃতির এই অপরূপ সাজানো সৃষ্টির মাঝে আমি, এর কারিগরকে কি ঠিকমত মূল্যায়ন করতে পেরেছি ? 

উত্তরঃ একটাই আমি জানি না। 

 এমন হাজার প্রশ্ন গুলি বুকের ভিতর জমা হয়ে আছে শুধু উত্তরের অপেক্ষায়।।

বন্ধুর সাক্ষাত

January 27, 2017 Add Comment

কথাকথনের মধ্যে আমি হঠাৎ তাকে প্রশ্ন করলাম, আপনার শিক্ষাগত মান কত ? উত্তরে তিনি বলেন আমি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়েছি। এই কথা বলতেই তার চোখে জল এসে গেল। মুহূর্তেই তিনি স্মৃতির ইতিহাসে ফিরে যান। আর বলেন আমি তখন অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র,বাবা দিনমজুরের কাজ করেন, তার ছিল প্রচণ্ড পিঠে ব্যাথা। নিয়মিত কাজ না করতে পারায়, পরিবারে অভাব অনাটন লেগেই থাকে। এক পর্যায়ে প্রায় অচল হয়ে পড়ে, ছোট ভাইয়ের শিক্ষার কথা মাথায় রেখে, আমি কর্ম জীবনে পদার্পণ করি। দিনে দিনমজুরের কাজ করে, ক্লান্ত শরীর নিয়ে রাত্রে নিয়মিত বই পড়তে বসাটা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়তো। এইভাবে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশুনা করা সম্ভব হলে ও পরবর্তীতে আর হয় নি। ছোট ভাইয়ের শিক্ষার খরচ বাড়তে থাকায় আর পরিবারের পূর্ণ ব্যায় ভার গ্রহণের কারনে, কাজের সন্ধানে আমাকে শহরে যেতে হয়।  তারপর একদিন বিয়ের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবনে পদার্পণ করি, একটা ছেলে আর একটা মেয়ে। জীবনে কঠিন পরিশ্রমের পরও কখনো দুঃখ অনুভব হয়নি,জাগেনি নিজে প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার ব্যর্থতা। তবে আনন্দিত হয়েছি যে, আমার ভাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সে এখন চাকরি করে, বিয়ে করেছে তার স্ত্রীও চাকরি করে। ভাই চাকরি পাওয়াতে বলেছিল তোমার আর কাজ করতে হবে না, পরিবারের ব্যায় ভার আমি বহন করবো। আর আমি বললাম আমার শক্তি আছে পরিশ্রম করার, তাই নিজ পরিবার সামলে নেবো, তুই বরং নিজের জন্য কিছু কর। বেশ কিছু কাল গত হয়েছে। এখন আমার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার পড়ছে, আগামীর আশার আলো তার প্রতি দেখছি। আজ আমারও বয়স বেড়েছে, শক্তি কমেছে, পরিবারে অর্থনৈতিক সংকটও দিনের পর দিন বাড়ছে, ভাই আর কোন খোঁজ নেয় না, সে নতুন ঘর বানিয়েছে, গাড়ি নিয়েছে বিলাসিতার জীবন কাটছে তাদের  প্রতিনিয়ত। চোখ মুছতে মুছতে বলল আজ আর তাকে কোনো অভিশাপ দেবো না, তার প্রতি আমার আশীর্বাদ রইল, ভালো কাটুক তাদের জীবন, সদা সুখী হওক।

জীবন বোধ

January 26, 2017 Add Comment

সোনা কে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, তার মূল্য কত ? সে বলবে মানে বুঝি না। আর যদি তার মালিক কে প্রশ্ন করা হয়, তাহলে মালিক বলবে এটি আমার বহু কষ্টের বিনিময়ে অর্জন করেছি , এটি আমার স্বপ্ন, আশা,আকাংঙ্খা। এই সোনা আমার শোভা বৃদ্ধি করে, এবং দুর্দিনে আমার ভরসা।
ঠিক তেমনি আমরা আমাদের জীবনের মূল্য বুঝতে পারি না, সোনার মতই। মূল্য তো জানো আমাদের বাবা, মা, ভাই, বোন, বন্ধু আর কাছের মানুষটি। যদি কখনো হারিয়ে যাই, তো তখন  খুবই miss করবে, আমার মত অবুঝ মূল্যবান রত্নকে। তাই আসুন আমরা আমাদের জীবনের মূল্যবোধকে উপলব্ধি করে, নতুন ভাবে জীবন গড়ি।

স্মৃতির আপডেট

January 26, 2017 Add Comment


 তখন রাত দুইটা, হাওড়া গামী পুরুলিয়া এক্সপ্রেসটি সাঁতরাগাছি স্টেশনে থেমেছে। ভারী বৃষ্টির কারনে হাওড়াতে পৌঁছাতে পারবে না। ঘরে যেতে দুই ঘণ্টার পথ, এই গভীর রাতে পৌঁছান অসম্ভব। ট্রেন থেকে নেমে ওভার ব্রিজ উপর উঠলাম। লাইট পোষ্টের আলোতে ঝির ঝির বৃষ্টিতে, এক অপরূপ দৃশ্য ভেসে উঠেছে। কিছু সময় এই দৃশ্য অবলোকন করার পর, হাওড়া যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে ওভার ব্রিজ থেকে নীচে নেমে সামনের দিকে চলতে লাগলাম, পথের মাঝে তিনটি বড় ব্যাগ নিয়ে, বৃষ্টিতে ভিজতে থাকা এক ভদ্র মহিলার কণ্ঠস্বর, ভাই একটু সাহায্য করবেন ? আমি বললাম বলুন, কি করতে পারি, তিনি বললেন আমার ব্যাগ গুলিকে নিয়ে, ট্রাক্সি স্টান্ডে পৌঁছে দেবে ? আমি বললাম দিন, ব্যাগ গুলি খুবই ভারী ঠিকমত সেগুলি নিয়ে স্টান্ডে পৌঁছে দিলাম। তারপর বাসে চড়লাম রাত গভীর হওয়ার কারনে বাস ভাড়া কুড়ি টাকার পরিবর্তে পঞ্চাশ দিতে হবে, খুচরো না থাকার কারনে একটি পাঁচশো টাকার নোট দিলাম, বাস কন্টাকটর আমাকে একটি পঞ্চাশ টাকা আর পাঁচটি একশো টাকার নোট অর্থাৎ সাঁড়ে পাঁচশো টাকা দিলেন। আমি গণনা করার পর, বেশি একশো টাকাটি তাকে ফেরত দেওয়াতে সে খুশি হল। হাওড়াতে পৌঁছালাম তখনো রাতের অন্ধকার, কিছু সময় অপেক্ষার পর সকাল হওয়াতেই বারাসাত গামী বাস ধরে বাড়িতে পৌঁছালাম, তখন সবে মাত্র পরিবারের লোক ঘুম থেকে উঠে আমাকে দেখে সবাই খুশি হল।

একটি সমাধান

December 01, 2016 Add Comment
আমরা দেখে থাকি যে, আমাদের প্রিয় মানুষটি কিছু যাবত কাল তিনি, মেজাজের ভারসাম্য হারিয়ে অযথা রূঢ় ব্যবহার করতে থাকে। তাই বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে,  প্রথমে  এর উৎস অনুসন্ধান করা আমাদের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এই সমস্যা সাধারণত দুটি কারনে হতে পারে ;
এক) শারীরিক :  শারীরিক অস্বস্তি বা কষ্টের কারনে হয়ে থাকলে, শীঘ্রয় চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
দুই) মানসিক :  আর যদি মানসিক সমস্যার কারনে হয়ে থাকে তাহলে বুঝতে হবে, তিনি কাঙ্ক্ষিত মানের ভালোবাসা না পাওয়ার কষ্টে মেজাজের ভারসাম্য হারিয়েছে। রূঢ় ব্যবহার হল তার আর্তনাদ, ভালোবাসা না পাওয়ার কষ্টে আর সেই সাথে পুনরায় ফিরে পাওয়ার দাবী। তাই আমাদের উচিত বিষয়টি উপলব্ধি করে, অতি শীঘ্রয় আগের মত ভালোবেসে এই সমস্যাটির সমাধান করা।

হারানো স্রোত

November 28, 2016 Add Comment
বাবু নিদ্রা হইতে জাগিয়া কহে,
ভাত দে মা, পড়িতে যামু গায়ের ঐ পাঠশালাতে,
মা নে কহে ভাত নাই ঘরে, পুছ তোর বাপুরে,
বাপু নে কহে ভাত নাই তো ক্যা হে,
ঘরমে দারু হে, যা বাছা পিলে,
বাবু পি কর ঢলিতে ঢলিতে পাঠশালায় যাই,
গুরুজী নে কহে ক্যায় রে পোলা খালি ঘুমাই,
দুর হ হতচ্ছাড়া ঘর মে যা,
ঘর মে আকর বাপু নে কহে, লেখাপড়া তোর হবেক নাই, দারু পিকর কাম পে যা,

কর্মতে আমি ছিলাম বড়ই কম জোর,
দারুই আমাকে করেছিল তাকাত বর,
যবানীর শুরুতেই পড়েছিলাম এক কন্যার প্রেমে,
স্বাদী মুই করিলাম মর্দ হওয়ারই আগে,
বছর ঘুরিতেই আসিল মোর স্ত্রীর কোলে,
ফুটফুটে এক পুষ্পে গেল নয়ন ভরে,
তার আগমনে কুঁড়ে ঘরটি আলোকিত হইল,
হাসিতে খুশিতে সবাই তাকে নিয়ে মাতিল,

সেই দিন, হ্যাঁ সেই দিন আজও মনে আছে,
সহকারীর সাথে হয়েছিল বচসা সামান্য বিষয়ে,
খেয়েছিলাম দারু মাথা নত করিতে নাহি পারি,
তাই সজোরে কশিয়েছিলাম আঘাত তরবারির,
এক যুগ হাজোত খাটিয়া ফিরলাম ঘরে,
আমার পুষ্প নয়নাটি তখন উঠেছে বেড়ে,
গাঁ'য়ের চারিপাশ দেখিলাম ঘুরে, সবই তো ঠিক আছে,
মাঝেতে দারু মোর যৌবন নিয়েছে কেড়ে,

গাঁয়ের ঐ পাড়াতে ছিল মোর সহপাঠীর বন্ধুর ঘর,
দেখা হয়েছিল পথে, নিজ গাড়িতে যেতেছিল আপন ঘর,
আমি কহিলাম ডেকে,
কেমন আছো বন্ধু কি কর ওহে,
কহিল সে, চাকরী করি গো বন্ধু দুরের ঐ শহরে,
গাড়ি বাড়ি সবই হয়েছে, পরিবার নিয়ে আছি বেশ সুখে,

আরে তোর খবর যে বল,
সবকিছু হারিয়ে দারু কি হল তোর সম্বল,
ওরে সর্বস্ব উজাড় করে,
দারু নিয়ে কি করে থাকলি ভুলে,

তখন আমার উদয় হলো চেতনার,
সত্যি তো আমি যে গেলাম পিছিয়ে সবার,
আরে পড়ার যখন সময় ছিল, পাই নি খেতে দু মুঠো,
খাবারের বদলে পেয়েছি দারু, বল কি করে আগে বাড়বো,
আচ্ছা তুই তো শিক্ষিত সত্যি করে বল,
ওরা দারু দিয়ে কেনো আমাদের জীবনের সাথে করে ছল ?

* আমরা কি পিছিয়ে গেলাম ?
না ওরা মাদেরকে পিছিয়ে দিল ?

তন্দ্র আচ্ছন্ন চোখের ভাষা

November 28, 2016 Add Comment
আমি তাকে দেখেছি দুরপাল্লার কোনো এক ট্রেনে। চলেছিল সুখের সন্ধানে আমারই অজানা কোনো গন্তব্যে। যদিও বা পথ ছিল দুর্গম, বহু মানুষের ভীড়, অবরুদ্ধ বাতাস, প্রায় তার শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। কমল হৃদয়ের মানুষটি পরিনিত হয়েছিল যান্ত্রিক মানবে, শুধু দৌড় আর দৌড়, ছিল না তার ভাবনার কোনো অবকাশ। হাজার ব্যস্ততার মাঝে হাবুডুবু খাওয়া সেই পথিক, যখন ক্লান্ত দেহে তার দুচোখে আধার নেমে আসে, তখন দাবী একটাই নিরাপদ কোনো আশ্রয়, যেখানে পূর্ণ শান্তি অবস্থান করে।